পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বাড়িতে বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজন নিহত ও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভূপতিনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ প্রেসিডেন্ট রাজকুমার মান্নার বাড়িতে এই বিস্ফোরণ হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে ওই নেতার বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।
বিস্ফোরণে নিহতরা হলেন- তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি রাজকুমার মান্না, তার ভাই দেবকুমার মান্না ও বিশ্বজিৎ গায়েন নামে তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মী।
ঘটনাস্থলে আজ তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
বিস্ফোরণের পর রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। বিস্ফোরণ হওয়া ওই বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে তৃণমূলের বুথ প্রেসিডেন্ট এবং আধ কিলোমিটার দূর থেকে আরেক জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হয়েছে নানা রহস্য। বিজেপির দাবি পুলিশ আসার আগেই মরদেহ লুকানোর চেষ্টা করছিল তৃণমূল। যদিও বোমা বিস্ফোরণের তীব্রতা নাকি অন্য কোনো কারণে ওই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিজেপির অভিযোগ, ভূপতিনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি রাজকুমার মান্না বাড়িতে বোম বাঁধার কাজ করছিল। তখনই অতর্কিতে বিস্ফোরণ হয়।
এ ঘটনায় ভগবানপুরে বিধায়ক ও বিজেপি নেতা রবীন্দ্রনাথ মাইতি বলেন, ‘তৃণমূল যে একটি সন্ত্রাসবাদী দল কোন রাজনৈতিক দল নয়, সেটি আবারও প্রামণ করলো। রাতে বোমা বাঁধা হচ্ছিল তৃণমূলের বুথ সভাপতি রাজকুমার মান্নার বাড়িতে। তখনই বিস্ফোরণ হয়। ঘটনার সময় ৮ থেকে ১০ জন উপস্থিত ছিল। বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ লুকানোর চেষ্টা চলছে। পুলিশ গ্রামবাসীকে ঘটনাস্থলে ঢুকতে দেয়নি। পুলিশ নিরপেক্ষ নয়। পুলিশ নিরপেক্ষ হলে আজকে এমন ঘটনা ঘটতো না। আমরা এনআইএ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। শুনেছি রাজকুমারের মা গুরুতর আহত হয়েছেন।’
যদিও বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজা বলেন, অভিষেকের জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী বোমা মারার জন্য ষড়যন্ত্র করছেন, এই হামলার পরে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে গেল।
বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের বিষয়ে তৃণমূলের বুথ সভাপতি রাজকুমার মান্নার স্ত্রী বলেন, আমি সবেমাত্র ঘুমিয়েছিল। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। তারপর দেখি ঘর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।
তিনি জানান, ঘটনার পরপরই কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে এসেছিলেন। তারাই দেহগুলো বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছেন।
তার দাবি এই বিস্ফোরণেই তার স্বামী রাজকুমার মান্না ও তার দুই ভাই বিশ্বজিৎ গায়েন ও লালুর মৃত্যু হয়েছে।
গোটা ঘটনায় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ তদন্তের দাবি করে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
Development by: webnewsdesign.com