ব্রেকিং

x

আমিরাতে বৈধ হওয়ার চেষ্টায় বাংলাদেশিরা

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ |

আমিরাতে বৈধ হওয়ার চেষ্টায় বাংলাদেশিরা
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মেহেদী হাসান একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে বছর তিনেক আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। দুই বছরের চুক্তি শেষে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভিসা করার প্রস্তাব পেলে সাড়া দেন তিনি। প্রায় আড়াই লাখ টাকার লেনদেনও করেন। কিন্তু ভিসা পাওয়ার আগেই মেহেদীর টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। এর পর তিনি হয়ে যান ‘অবৈধ’। গত ছয় মাস কাগজপত্রবিহীন থাকা এই প্রবাসী দেশটিতে সাধারণ ক্ষমার আওতায় জরিমানা মওকুফের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি ভিসাও পেয়েছেন একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের।

আমিরাতে মেহেদীর মতো এমন অনেক প্রবাসীর ভাগ্য বদলে গেছে। কারণ, ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটিতে শুরু হয়েছে দুই মাসের সাধারণ ক্ষমা। অবৈধ অভিবাসী বা প্রবাসীরা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বৈধ হতে পারবেন। যারা দেশে ফিরে আসতে চান, তারা ফিরতেও পারবেন। এজন্য কোনো জরিমানা গুনতে হবে না। সাধারণ ক্ষমার আওতায় জেল-জরিমানা ছাড়া নতুন প্রতিষ্ঠানে ভিসা করার সুযোগ পাচ্ছেন অনেকে।

পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্টের আবেদন ও ট্রাভেল পারমিট করতে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমিরাতের দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটে যান অনেক প্রবাসী। একই চিত্র ছিল আবুধাবি বাংলাদেশ দূতাবাসেও। শনি ও রোববার সরকারি ছুটি হওয়ায় সপ্তাহের শেষ দিন এমন ব্যস্ত সময় পার করে মিশনগুলো। এই দু’দিন সরকারি ছুটি থাকলেও আবুধাবি বাংলাদেশ দূতাবাস অস্থায়ীভাবে সেবা চালু রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। দূতাবাস থেকে প্রতিনিধি দল আল আইন ও বেদা জায়েদ অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে সেবা প্রদান করবে।
নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করলেও বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিতে আগ্রহী প্রবাসীদের শতকরা ৮০ শতাংশ বৈধ হতে আবেদন করছেন। এই সুযোগে অনেকে বৈধতা নিয়ে দেশটিতে থাকার অনুমতি পাচ্ছেন।

জানা গেছে, বৈধতা নিশ্চিতের দিকে এখন বেশি আগ্রহ প্রবাসীদের। তাই প্রতিদিন পাসপোর্ট নবায়ন ও নতুন পাসপোর্টের আবেদন আসছে বেশি। অন্যদিকে, দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পারমিটও নিচ্ছেন অনেকে। দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ই-পাসপোর্ট ও এমআরপি পাসপোর্টের আবেদন করেছেন ১১ হাজার ৯৭৬ জন। আবুধাবি বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদন করছেন ৪ হাজার ৮৬১ প্রবাসী। অন্যদিকে, ২০ দিনে জেল-জরিমানা ছাড়া দেশের ফেরার জন্য দুবাই থেকে ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করেছেন ৮৫৯ জন। এর মধ্যে কারাবন্দি প্রবাসীর সংখ্যা ২০৩। আবুধাবি থেকে ট্রাভেল পারমিট নিয়েছেন ৬০ জন এবং ওমান থেকে অনুপ্রবেশকারী ১৯ জন প্রবাসীও দেশে ফেরার অনুমতি পেয়েছেন।

দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কাউন্সিলর (পাসপোর্ট ও ভিসা উইং) মোহাম্মদ কাজী ফয়সাল জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মালিক কর্তৃক পলায়নে অভিযুক্ত ১ হাজার ৯৩৪ বাংলাদেশির তামিল করা পাসপোর্ট তাদের কাছে আছে। নম্বর যাচাই করে কনস্যুলেটের ৭ নম্বর কাউন্টার থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে সাধারণ ক্ষমা পাওয়া যাবে।
আবুধাবি বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর হাজরা সাব্বির হোসেন ও প্রথম সচিব (পাসপোর্ট ও ভিসা) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, দেশটিতে বৈধ হওয়ার চেষ্টা করছেন শতকরা ৮০ শতাংশ প্রবাসী। ৫ থেকে ১০ শতাংশ প্রবাসী দেশে ফেরার আবেদন করছেন।

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com