ব্রেকিং

x

গভর্নরের সঙ্গে অর্থনীতিবিদদের বৈঠকে রিজার্ভ ধরে রাখার পরামর্শ

রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬ | ২:৫৭ অপরাহ্ণ |

গভর্নরের সঙ্গে অর্থনীতিবিদদের বৈঠকে রিজার্ভ ধরে রাখার পরামর্শ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন শীর্ষ অর্থনীতিবিদেরা। তাদের মতে, পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত থাকায় ডলার ও রিজার্ভের ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে রিজার্ভ ধরে রাখার দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ডরুমে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়ে দেশের আটজন অর্থনীতিবিদ এসব পরামর্শ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

বৈঠকের সূত্রগুলো জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে রিজার্ভ থেকে ডলার ব্যয় করে অতিরিক্ত আমদানিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস খোঁজার কথাও বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ব্রুনেই ও সিঙ্গাপুর থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও তা এখনই পুরোপুরি ভোক্তা পর্যায়ে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। এতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

তারা বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা পুরোপুরি এড়ানো কঠিন। তাই সম্ভাব্য ক্ষতি কীভাবে কমানো যায়, সে দিকেই নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া প্রতিশ্রুত ঋণ দ্রুত ছাড়ের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়। তেল আমদানির জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত অর্থায়নের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।বৈঠকে প্রবাসী আয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থনীতিবিদেরা। তাদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকদের চলাচলে সমস্যা হলে রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে। তবে যারা দেশে অর্থ পাঠাতে চান, তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর উত্তেজনার কারণে ডলার ও রিজার্ভের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে—এ বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের অনিশ্চয়তাও গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে অর্থনীতিবিদেরা বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। তাই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না, যাতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের সূত্র জানায়, গভর্নর মোস্তাকুর রহমান অর্থনীতিবিদদের জানিয়েছেন যে তিনি সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চান এবং কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, নতুন গভর্নর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর নীতি সুদহার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে

নীতিনির্ধারণী কমিটির এক সদস্যের পদত্যাগ এবং কয়েকজন অর্থনীতিবিদের আপত্তির কারণে সেই বৈঠক স্থগিত হয়ে যায়।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পরামর্শ নিতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদদের মধ্যে ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, ফাহমিদা খাতুন, মোস্তফা কে মুজেরী, মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, সেলিম রায়হান, মাসরুর রিয়াজ, এ কে এনামুল হক এবং নাজমুস সাদাত খান।

 

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com