ব্রেকিং

x

রেকর্ড লেনদেনের পর শেয়ারবাজারে দরপতন

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ | ৩:৪৩ অপরাহ্ণ |

রেকর্ড লেনদেনের পর শেয়ারবাজারে দরপতন

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্রথম কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে রেকর্ড লেনদেন হলেও দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (৮ জুন) ঢালাও দরপতন হয়েছে।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি কমেছে সবকটি মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা উত্থানের কারণে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এতে শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। এই মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণেই দরপতন হয়েছে। এটি স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম। এতে মূল্য সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্য সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৭টির এবং ৪৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২০টির দাম কমেছে এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২২টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৯টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৯টির এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৯টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৬৯ পয়েন্টে নেমে গেছে। এর মাধ্যমে টানা নয় কার্যদিবস বাড়ার পর মূল্য সূচক কমলো।

মূল্য সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৫২৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৪৫৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার। ২৫ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনসিসি ব্যাংক।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, নাভানা ফার্মা, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৮৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৪টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, টানা নয় কার্যদিবস বাড়ার পর আজ মূল্য সূচক কমেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি স্বাভাবিক মূল্য সূচক। যারা লাভে রয়েছে, তারা মুনাফা তুলে নেওয়ায় আজ বিক্রির চাপ বেশি ছিল। অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে বাজারে শিগগিরই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ফিরে আসবে।

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com