গত এক মাসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৫৪৫৬ পয়েন্ট থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩৬৬ পয়েন্টে। এক মাসের ব্যবধানে ডিএসই’র প্রধান সূচক কমেছে ৩১৮ পয়েন্ট। এ সময়ে শেয়ারবাজারে ৪ কার্যদিবস উত্থানে থাকলেও ২২ কার্যদিবই থাকে পতনে। ধারাবাহিক এই দর পতনের মধ্যে মৌলভিত্তি অনেক কোম্পা্নরি শেয়ারদর বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এলেও স্বল্প মূলধনী ২৫ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। কেবল স্বল্প মূলধনী হওয়ার কারণেই এসব কোম্পানির শেয়ারদর আকাশচুম্বী করে তুলেছে শেয়ারবাজারের কথিত খেলোড়ায়রা।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বাদে বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩০৩টি। এরমধ্যে পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি বা শেয়ার সংখ্যা ১ কোটির নিচে রয়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ৩৩টি। এর মধ্যে ২৫টি কোম্পানির শেয়ারদর গত এক মাসে ৮ শতাংশ থেকে ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। দুর্বল ও লোকসানি এসব স্বল্প মূলধনী কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বাড়ানোর কারণে কোম্পানিগুলোর শেয়ার এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ সময়ে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কোন সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে বিক্রেতা সংকটে পড়ে হল্টেড হতে দেখা যায়।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বল্প মূলধনী ৩৩টি কোম্পানির মধ্যে ৯টি কোম্পানি লোকসানি কোম্পানি হিসাবে এমনিতেই বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অপরদিকে, মুনাফায় থাকা অবশিষ্ট ২৪টি কোম্পানির মধ্যে সিংহভাগ কোম্পানিই নন-মার্জিনেবল, যেগুলোর মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বর্তমানে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
স্বল্প মূলধনী ৯ লোকাসানি কোম্পানি হলো – লিবরা ইনফিউশন, সাভার রিফেক্টরিজ, জুট স্পিনার্স, নর্দার্ন জুট, শ্যামপুর সুগার, জিলবাংলা সুগার, দুলামিয়া কটন, জিকিউ বলপেন ও ইমাম বাটন। এগুলোর পিই নেগেটিভ।
অন্যদিকে, মুনাফায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বশেষ শেয়ারদর অনুযায়ী পিই রেশিও হলো: ফার্মা এইড ২৯.৬২, এরামিট লিমিটেড ৩৪.৪০, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট ৪২.১৪, এ্যাপেক্স স্পিনিং ৪৭.৮০, ন্যাশনাল টি ৫১.৬০, রেকিট বেনকিজার ৬২.৫৫, বিডি ল্যাম্প ৬৪.৪৯, স্টাইলক্রাপ্ট ৬৭.৮৬, ওয়াটা ক্যামিকেল ৭৪.২২, এ্যাপেক্স ফুড ১২৮.০৯, জেমিনি সী ফুড ১৪২.৯৫, এ্যাম্বি ফার্মা ১৪৮.০৭, বিডি অটোকারস ১৫৬.৬০, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ১৬০.৫৬, সোনালী আঁশ ১৭০.৮০, মডার্ন ডাইং ১৮৮.৮০, আজিজ পাইপ ১৯৪.৮৮, কেএন্ডকিউ ২১২.২৪, রেনউউক যজেনশ্বর ২৪৫.৩৭, বঙ্গজ ৪২০.১৮, মুন্নু স্ট্যাফলার্স ৭১৩.৮৫। অর্থাৎ স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর মধ্যে মার্জিনেবল কোম্পানি মাত্র ফার্মা এইড ও এরামিট লিমিটেড।
শেয়ার সংখ্যার দিক থেকে স্বল্প মূলধনী ৩৩ কোম্পানি হলো: মুন্নু স্ট্যাফলার্স ৪ লাখ ৬০ হাজার, স্টাইলক্রাপ্ট ৯ লাখ ৯০ হাজার, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট ৯ লাখ ৯৪ হাজার, লিবরা ইনফিউশন ১২ লাখ ৫২ হাজার, মডার্ন ডাইং ১৩ লাখ ৬৮ হাজার, সাভার রিফেক্টরিজের ১৩ লাখ ৯৩ হাজার, জুট স্পিনার্সের ১৭ লাখ, রেনউইক যজেনশ্বরের ২০ লাখ, নর্দার্ন জুটের ২১ লাখ ৪৩ হাজার, এ্যাম্বি ফার্মার ২৪ লাখ, সোনালী আঁশের ২৭ লাখ ১২ হাজার, ফার্মা এইড ৩১ লাখ ২০ হাজার, জেমিনি সী ফুড ৩৭ লাখ ১৩ হাজার, বিডি অটোকার্স ৩৮ লাখ ৬৩ হাজার, রেকিট বিনকিজার ৪৭ লাখ ২৫ হাজার, কে এন্ড কিউ ৪৯ লাখ ৩ হাজার, শ্যামপুর সুগার ৫০ লাখ, আজিজ পাইপ ৫০ লাখ ৯৩ হাজার, এপেক্স ফুড ৫৭ লাখ ৩ হাজার, এরামিট লিমিটেড ৬০ লাখ, ঝিলবাংলা সুগার ৬০ লাখ, দেশ গার্মেন্টস ৬০ লাখ ৪৬ হাজার, বঙ্গজ ৬৩ লাখ ১৫ হাজার, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ৬৪ লাখ ৬১ হাজার, এনটিসি ৬৬ লাখ, দুলামিয়া কটন ৭৫ লাখ ৫৭ হাজার, ইমাম বাটন ৭৭ লাখ, এএমসিএল প্রাণ ৮০ লাখ, এপেক্স স্পিনিংয় ৮৪ লাখ, জিকিউ বল পেন ৮৯ লাখ ২৮ হাজার, ওয়াটা ক্যামিকেল ৯১ লাখ ২২ হাজার এবং বিডি ল্যাম্প ৯৩ লাখ ৭১ হাজার শেয়ার।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক মাসে দর বৃদ্ধির মধ্যে শীর্ষে উঠে এসেছে মুন্নু স্ট্যাফলার্স। কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ১২১৬.২০ টাকা বা ৭৬.৩৯ শতাংশ। এরপর দর বেড়েছে বিডি অটেকারসের ৬৪.৫৮ শতাংশ, লিবরা ইনফিউশনের ৩৮.১৮ শতাংশ, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের ৩৫.৭০ শতাংশ, মডার্ন ডাইংয়ের ২৯.৭০ শতাংশ, সাভার রিফেক্টরিজের ২৬.৩১ শতাংশ, স্টাইলক্রাপ্টের দর বেড়েছে ২৬.২১ শতাংশ, আজিজ পাইপের ২৫.৯৯ শতাংশ, এ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের ২৪.৬৪ শতাংশ, কেএন্ডকিউর ২১.৯১ শতাংশ, রেনউইক যজেনশ্বরের ১৯.৩৮ শতাংশ, নর্দার্ন জুটের ১৯.৩০ শতাংশ, ইমাম বাটনের ১৮.৭৫ শতাংশ, এ্যাম্বি ফার্মার ১৫.৭০ শতাংশ, সোনালী আঁশের ১৪.২৪ শতাংশ, রেকিট বেনকিজারের ১৪.৭০ শতাংশ, দেশ গার্মেন্টসের ১৩.৮৯ শতাংশ, জিকিউ বলপেনের ১১.৩৮ শতাংশ, রহিম টেক্সটাইলের ১০.৯৩ শতাংশ, জেমিনি সী ফুডের ৯.৫৫ শতাংশ, ওয়াটা ক্যামিকেলের ৯.২২ শতাংশ, বঙ্গজের ৮.৬৩ শতাংশ এবং ন্যাশনাল টির ৮.০৪ শতাংশ।
স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর এক মাসে সর্বনিম্ন দর, সর্বশেষ দর এবং দর বৃদ্ধির হার নিচে তুলে ধরা হলো:-
| ক্রমিক | কোম্পানি | এক মাসে সর্বনিম্ন দর | সর্বশেষ দর | দর বেড়েছে |
| ১ | মুন্নু স্ট্যাফলার্স | ১৫৯২ টাকা | ২৮০৮.২০ টাকা | ৭৬.৩৯ শতাংশ |
| ২ | বিডি অটোকারস | ১০৫.৩০ টাকা | ১৭৩.৩০ টাকা | ৬৪.৫৮ শতাংশ |
| ৩ | জিলবাংলা সুগার | ৪১ টাকা | ৫৮.২০ টাকা | ৪১.৯৫ শতাংশ |
| ৪ | লিবরা ইনফিউশন | ৪৯১ টাকা | ৬৭৮.৫০ টাকা | ৩৮.১৮ শতাংশ |
| ৫ | ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট | ১১৭৭ টাকা | ১৫৯৭.৩০ টাকা | ৩৫.৭০ শতাংশ |
| ৬ | মডার্ন ডাইং | ১৯০.২০ টাকা | ২৪৬.৭০ টাকা | ২৯.৭০ শতাংশ |
| ৭ | সাভার রিফেক্টরিজ | ১৩৩ টাকা | ১৬৮ টাকা | ২৬.৩১ শতাংশ |
| ৮ | স্টাইলক্রাপ্ট | ১৭৬০ টাক | ২২২১.৩০ টাকা | ২৬.২১ শতাংশ |
| ৯ | আজিজ পাইপ | ১২৫.৮০ টাকা | ১৫৮.৫০ টাকা | ২৫.৯৯ শতাংশ |
| ১০ | এ্যাপেক্স স্পিনিং | ১১২ টাকা | ১৩৯.৬০ টাকা | ২৪.৬৪ শতাংশ |
| ১১ | কেএন্ডকিউ | ১৬০.২০ টাকা | ১৯৫.৩০ টাকা | ২১.৯১ শতাংশ |
| ১২ | নর্দার্নজুট | ২৭৭.২০ টাকা | ৩৩০.৭০ টাকা | ১৯.৩০ শতাংশ |
| ১৩ | ইমাম বাটন | ২৪ টাকা | ২৮.৫০ টাকা | ১৮.৭৫ শতাংশ |
| ১৪ | এ্যাম্বি ফার্মা | ৪৩০ টাকা | ৪৯৭.৫০ টাকা | ১৫.৭০ শতাংশ |
| ১৫ | দেশ গার্মেন্টস | ২০৩ টাকা | ২৩১.২০ টাকা | ১৩.৮৯ শতাংশ |
| ১৬ | সোনালী আঁম | ২৭৩.১০ টাকা | ৩১২ টাকা | ১৪.২৪ শতাংশ |
| ১৭ | শ্যামপুর সুগার | ৪২.৯০ টাকা | ৪৮.৯০ টাকা | ১২.৫৮ শতাংশ |
| ১৮ | জিকিউ বলপেন | ৬৫ টাকা | ৭২.৪০ টাকা | ১১.৩৮ শতাংশ |
| ১৯ | রহিম টেক্সটাইল | ৩০৪.৬০ টাকা | ৩৩৭.৯০ টাকা | ১০.৯৩ শতাংশ |
| ২০ | জেমিনি ফুড | ৩৮১ টাকা | ৪১৭.৪০ টাকা | ৯.৫৫ শতাংশ |
| ২১ | ওয়াটা ক্যামিকেল | ২৭০ টাকা | ২৯৪.৯০ টাকা | ৯.২২ শতাংশ |
| ২২ | বিডি ল্যাম্প | ১৬২.৯০ টাকা | ১৭৮ টাকা | ৯.২৬ শতাংশ |
| ২৩ | বঙ্গজ | ২১৬.৬০ টাকা | ২৩৫.৩০ টাকা | ৮.৬৩ শতাংশ |
| ২৪ | স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক | ১০৬ টাকা | ১১৫.৬০ টাকা | ৮.৪৯ শতাংশ |
| ২৫ | ন্যাশনাল টি | ৫৮২ টাকা | ৬২৮.৮০ টাকা | ৮.০৪ শতাংশ |
অর্থকাল/এসএ/খান
Development by: webnewsdesign.com