ব্রেকিং

x

১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন দের গ্রামীণফোনের শেয়ার

মঙ্গলবার, ১২ জুন ২০১৮ | ৩:৩২ অপরাহ্ণ |

১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন দের গ্রামীণফোনের শেয়ার

পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোনের শেয়ারদর গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩৭৭ টাকায় লেনদেন হয়, যা গত বছরের ৮ আগস্ট অবস্থানে ছিল।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, টানা আট সপ্তাহ শেয়ারটির দর কমছে। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি দর ১২০ টাকা বা ২৪ শতাংশ কমে এ পর্যায়ে নেমেছে। গত ১৯ এপ্রিলের পর থেকে ক্রমাগত দর কমছে।

বাজার-সংশ্নিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মুনাফা বা মৌলভিত্তিক কোনো ইস্যু নয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটরটির দরপতনের বড় কারণ বিদেশিদের শেয়ার বিক্রি। সোমবারের দরপতনের কারণও তাই। রোববারের তুলনায় ১৪ টাকা ৯০ পয়সা বা পৌনে ৪ শতাংশ দর কমে ৩৭৭ টাকায় নেমেছে।

সংশ্নিষ্টরা আরও জানান, বিদেশিদের বিক্রি করা শেয়ার দেশি প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীরা কিনছে। আগ্রহী ক্রেতাদের প্রায় সবাই চাইছেন, যতটা কমে শেয়ারটি কেনা যায়। এ কারণে প্রায় প্রতিদিনই কমছে গ্রামীণফোনের শেয়ারদর।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৬ সালে কোম্পানিটির মোট আয় ছিল ১১ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। ওই বছরের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১৬ টাকা ৬৮ পয়সা। ২০১৭ সালে রাজস্ব আয় বেড়ে ১২ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা এবং ইপিএস ২০ টাকা ৩১ পয়সা হয়। তবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস কিছুটা কমেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, সর্বশেষ প্রান্তিকে রাজস্ব আয় বাড়লেও ফোরজি লাইসেন্স নেওয়াসহ নতুন বিনিয়োগের কারণে নিট মুনাফা কিছুটা কমেছে।

গ্রামীণফোনের শেয়ারধারণের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০০৯ সালের তালিকাভুক্তির পর গত এপ্রিলে বিদেশিদের শেয়ার মোটের সর্বাধিক ৩ দশমিক ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানে গত মে শেষে তা ৩ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমেছে। অথচ সোয়া দুই বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৬ সালের মার্চের শেষে গ্রামীণফোনের মোট শেয়ারে বিদেশিদের অংশ ছিল ২ শতাংশেরও কম।

পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, ২০১৬ সালের মার্চের শেষে গ্রামীণফোনের শেয়ার ২০০ টাকার নিচে কেনাবেচা হচ্ছিল। এর পর থেকে দাম বাড়তে থাকে এবং গত ফেব্রুয়ারিতে তালিকাভুক্তির পর সর্বোচ্চ দর ৫১৩ টাকায় উন্নীত হয়। গত দুই বছরে বিদেশিদের শেয়ারধারণ দ্বিগুণে উন্নীত হয়। আর একই সময়ে শেয়ারদর বেড়ে হয় আড়াই গুণ।

এখন বিদেশিরা মুনাফা তুলে নেওয়া শুরু করতেই কমতে শুরু করেছে দর। গত এপ্রিলের তুলনায় মে মাসের শেষে এসে গ্রামীণফোনে বিদেশিদের শেয়ার কমেছে মোটের মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। এতে ওই মাস শেষে শেয়ারটির দর ৫৫ টাকা বা সাড়ে ১১ শতাংশ কমে ৪১৫ টাকায় নামে।

চলতি জুনের সাত কার্যদিবসেই শেয়ারটির দর কমেছে আরও ৩৯ টাকা বা সাড়ে ৯ শতাংশ। গতকালই শেয়ারপ্রতি দর কমেছে ১৪ টাকা ৯০ পয়সা বা পৌনে ৪ শতাংশ।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শুধু গ্রামীণফোনের কারণে সোমবার ডিএসইএক্স সূচক হারিয়েছে ৮ পয়েন্ট। একক কোম্পানি হিসেবে সোমবার সূচকটিতে যেসব কোম্পানির শেয়ারের দরপতন সর্বাধিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, গ্রামীণফোন ছিল সেগুলোর সবার ওপরে। সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলা শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে বাকিগুলোর কারণে (রেনেটা, প্রাইম ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, আইএফআইসি ব্যাংক, বিএসআরএম লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া, ওয়ান ব্যাংক ও নাভানা সিএনজি) সূচক কমেছে মাত্র ৬ পয়েন্ট।

তবে দিন শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স তিন পয়েন্ট বেড়েছে। এতে বাজেটের দিন ও ঘোষণার পরের রোববারের দরপতন থেমেছে। গতকাল এ বাজারে লেনদেনও প্রায় ৪২ কোটি টাকা বেড়ে সাড়ে চারশ’ কোটি টাকা হয়েছে।

অর্থকাল/এসএ/খান

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com