বাড়ছে বিয়ে বিচ্ছেদ। মহামারির মতো সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ছে বিয়ে বিচ্ছেদের প্রবণতা। চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরে বিয়ে বিচ্ছেদ চেয়ে সিটি করপোরেশনের সালিশি আদালতে আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৫৭২ জন। গড়ে দৈনিক ১৪টি বিচ্ছেদের আবেদন পড়েছে এ আদালতে।
স্বার্থের সংঘাত, অর্থের অভাব, পরকীয়ায় আসক্ত, মাদকাসক্ত, মোবাইল ফোনে আসক্তি, যৌতুক, কনে পক্ষের দেনমোহরের চাপ, মতের অমিল আর আত্মসম্মান মোকাবিলায় চূড়ান্ত হচ্ছে বিয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত। এক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন নারীরাই।
নারীদের বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদনের প্রধান কারণ-যৌতুকের জন্য নির্যাতন, অন্য নারীর সঙ্গে স্বামীর সম্পর্ক বা দ্বিতীয় বিয়ে, মতের বনিবনা না হওয়া, শাশুড়ির সঙ্গে দ্বন্দ্ব, স্বামীর মাদকাসক্তি, চাকরি করতে না দেওয়া বা স্বাবলম্বী হতে বাধা দেয়া ইত্যাদি।
অপরদিকে বিয়ে বিচ্ছেদে পুরুষের আবেদনের প্রধান কারণ-অন্য পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্ক, সংসারে মানিয়ে না চলা, স্বামীর কথা না শোনা, যৌথ পরিবারে থাকতে না চাওয়া, সন্তান না হওয়া, শ্বশুর ও স্বামীর নিকটাত্মীয়ের প্রতি সম্মান না দেখানো ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রে দেনমোহরের লোভেও বিয়ের কয়েক মাস না যেতেই স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাক দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সালিশি আদালতের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা বলেন, উচ্চ, মধ্য ও নিম্নবিত্ত-সবার ক্ষেত্রেই বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বিয়ে বিচ্ছেদের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
২০২০ সালে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সালিশি আদালতে আবেদন করেন ৪ হাজার ৮৫৪ জন। ২০১৯ সালে ৪ হাজার ৫৫০, ২০১৮ সালে ৪ হাজার ৩৩১, ২০১৭ সালে ৩ হাজার ৯২৮, ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৯৬১, ২০১৫ সালে ৩ হাজার ৪৮৬ ও ২০১৪ সালে ৩ হাজার ২৬৮ জন বিয়ে-বিচ্ছেদের আবেদন করেন ।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সালিশি আদালতের তালাকের নোটিশগুলোর ৫৫ শতাংশের বেশি ছিল স্ত্রীদের পক্ষ থেকে। অর্থাৎ নারীরাই বিয়ে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে বেশি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
Development by: webnewsdesign.com