সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের নারী ফুটবলার মাসুরা পারভিন (ডিফেন্ডার) ও তার বাবা-মা বসবাস করেন সাতক্ষীরার সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায়। নিজেদের কোন জায়গাজমি নেই তাদের। কয়েক বছর আগে মাসুরার বাবা ৮ শতক সরকারি খাস জমি নিজের নামে বন্দোবস্ত পেয়েছেন। কিন্তু সেই জমি নিচু হওয়ায় ও পানি জমায় সেখানে বাড়ি-ঘর তৈরি করতে পারেননি মাসুরার দরিদ্র পিতা। তারা বর্তমানে বসবাস করেন সড়ক বিভাগের রাস্তার ধারের সরকারি খাস জমিতে।
সম্প্রতি সড়ক বিভাগ সড়ক সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাসুরাদের বাড়ি উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছে সড়ক বিভাগ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি ভেঙে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে লাল রঙের ক্রস চিহ্ন মেরে দেওয়া হয়েছে। কোথায় যাবে নারী ফুটবলার মাসুরার হতদরিদ্র পরিবার? এই চিন্তায় যখন পুরো পরিবার হতাশাগ্রস্ত ঠিক তখনই খবর এলো দেশের জন্য মাসুরাদের সুনাম অর্জনের কথা। ঢাকায় যখন মাসুরাদের নিয়ে আনন্দবন্যা বইছে তখন মাসুরার চিন্তা যেন পিছু ছাড়ছে না। বাড়িতে গিয়ে কোথায় থাকবে, কোথায় রাখবে হতদরিদ্র পিতা-মাতাকে। কোথায় একটু মাথা গোজার ঠাঁই মিলবে তাদের।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির মাসুরার বাড়িতে হাজির পরিবারের খোঁজ খবর নিতে। গিয়ে জানতে পারেন তাদের অসহায়ত্বের কথা। তিনি তাৎক্ষনিক ভাবে আদেশ দেন মাসুরা পারভিনের বাড়িতে যে লাল রঙের ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয়েছে সেটি মুছে ফেলতে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এর নির্দেশনায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম এটি মুছে দেন।
মাসুরার বাবা রজব আলী বলেন, এই লাল চিহ্ন দেওয়ার পর থেকে খুবই চিন্তায় ছিলাম। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে তারা সেটি মুছে ফেলে।
সাতক্ষীরার লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম বলেন, মাসুরা শুধু সাতক্ষীরা বা আমাদের লাবসা ইউনিয়নের গর্ব না সে আমাদের পুরো বাংলাদেশের গর্ব। আমি নিজে হাতে সওজ এর দেওয়া লাল ক্রস চিহ্ন মুছে ফেলেছি। তার জন্য আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে অবশ্যই সুনজর রাখব।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, যতদিন না পর্যন্ত মাসুরা পারভিনের পরিবার নিজেদের বাড়ি বাংলাদেশ সড়ক বিভাগের নির্ধারিত জায়গা থেকে সরিয়ে নতুন বাড়ি করবেন ততদিন পর্যন্ত তাদের (সওজ) কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাসুরার বাবা রজব আলীর নামে ইতোপূর্বে ৮ শতক সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। ওই জমি একটু নিচু। বাড়ি করতে গেলে সেখানে মাটি ভরাট করতে হবে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে সব ধরনের সহায়তা দেবে।
Development by: webnewsdesign.com