প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন এবং কোম্পানির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ৩৭টি কোম্পানিকে পুরস্কৃত করেছে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি)। গত শনিবার রাতে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দিয়েছে চার্টার্ট সেক্রেটারিদের সংগঠনটি।
আইসিএসবির নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, ২০২১ সালে কোম্পানিগুলোর সাফল্যের ভিত্তিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রমোটিং গভর্নিং এক্সিলেন্স’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো থেকে পৃথক ১২ খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের স্বীকৃতি সরূপ স্মারক ও সনদ দেওয়া হয়। গোল্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জ- এ তিনটি ক্যাটাগরিতে কোম্পানিগুলোকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ হিসাবে জেনারেল ব্যাংকিং খাতে গোল্ড, সিলভার এবং ব্রোঞ্জ পুরস্কার পেয়েছে যথাক্রমে ইস্টার্ন, মার্কেন্টাইল এবং ব্র্যাক ব্যাংক। ইসলামিক ব্যাংকিং খাতে শাহজালাল ইসলামী। নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ডিবিএইচ, আইডিএলসি এবং বিডি ফাইন্যান্স। জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ক্যাটাগরিতে গ্রিন ডেল্টা, রিলায়েন্স ও পিপলস এবং সেনা কল্যাণ ও সিটি জেনারেল। লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে প্রগতি, ন্যাশনাল এবং সন্ধানী লাইফ।
ফার্মাসিউটিক্যালস ও কেমিক্যাল খাতে পেয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা এবং ওরিয়ন ফার্মা। টেক্সটাইল ও আরএমজি খাতে পিটিএল, মতিন স্পিনিং এবং স্কয়ার টেক্সটাইল। ফুড ও অ্যালায়েড খাতে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো এবং অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি খাতে ওয়ালটন হাইটেক, সিঙ্গার এবং রানার অটোমোবাইলস। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে আরএকে সিরামিকস ও ম্যারিকো, লাফার্জ হোলসিম ও প্রিমিয়ার সিমেন্ট। ফুয়েল অ্যান্ড পাওয়ার খাতে ইউনাইটেড পাওয়ার, সামিট পাওয়ার এবং ডোরিন পাওয়ার। সার্ভিস খাতে ইস্টার্ন হাউজিং, ইউনিক হোটেল এবং ইনডেক্স এগ্রো।
অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রগুলো স্বাভাবিকভাবেই বৈচিত্র্যময়। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এই বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রগুলোর বৈশিষ্ট্যগুলোকে একটি সাধারণ কাঠামোর মধ্যে তালিকাভুক্ত করেছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোম্পানি পরিচালনায় সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা। এর ফলে কোম্পানিগুলো তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ, আইন-কানুন যথাযথভাবে পরিপালন এবং প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশিকা অনুসরণ করার বিষয়ে সচেতন হচ্ছে।
Development by: webnewsdesign.com