ব্রেকিং

x

পাচার হচ্ছে বর্জ্য তুলা

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ | ৬:১১ অপরাহ্ণ |

পাচার হচ্ছে বর্জ্য তুলা
সংগৃহীত ছবি

রিসাইকেল ফাইবার বা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য সুতায় উৎপাদিত বস্ত্র ও পোশাকের চাহিদা বাড়ছে বিশ্ববাজারে। এ ধরনের বস্ত্র ও পোশাক উৎপাদনে ব্যবহূত সুতার প্রধান কাঁচামাল ব্যবহূত তুলার বর্জ্য। অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সংগ্রহ করা এই বর্জ্য ব্যবহারে রিসাইকেল ফাইবারের মিলগুলো বছরে ২৪ লাখ টন সুতা উৎপাদন করে থাকে। এতে ১০০ কোটি ডলারের আমদানি সাশ্রয় হচ্ছে। এতে পানির ব্যবহার কম। কার্বন নিঃসারণও কম হয়। ফলে পরিবেশ সহায়ক রিসাইকেল ফাইবারে বড় সম্ভাবনা দেখছে দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাত।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মিথ্যা ঘোষণায় পাচার হয়ে যাচ্ছে রিসাইকেল ফাইবারের কাঁচামাল বর্জ্য তুলা। চীন ও ভারত এই পাচারের প্রধান দুই গন্তব্য। এতে প্রয়োজনীয় বর্জ্য তুলার সংকট এখন চরম। সহজলভ্য না হওয়ায় তুলা বর্জ্যের দাম গত ছয় মাসে বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দুর্বল হচ্ছে দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাত।
জানা গেছে, তুলার বর্জ্য রপ্তানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক্ক ধার্য রয়েছে। তবে সুতার বর্জ্য রপ্তানিতে কোনো ধরনের শুল্ক্ক বাধা নেই। এ সুযোগে কিছু অসাধু রপ্তানিকারক মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে সুতার বর্জ্য নামে তুলার বর্জ্য রপ্তানি করছে। অন্যদিকে মিথ্যা ঘোষণায় রপ্তানির কারণে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটছে।
পাচার রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হস্তক্ষেপ চেয়েছে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। গত সপ্তাহে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের বরাবরে পাঠানো চিঠিতে তুলার বর্জ্যসহ সব ধরনের গার্মেন্টস বর্জ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। তুলা বর্জ্যের অভাবে রিসাইকেলিং শিল্পে উৎপাদন সংকটের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। স্কয়ার টেক্সটাইল, আরবিডি ফাইবারসহ কয়েকটি সদস্য মিলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।
রিসাইকেল ফেব্রিক্স হচ্ছে তুলার বর্জ্য এবং পুরোনো কাপড়কে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন সুতা এবং সেই সুতায় কাপড় তৈরি করা। সাধারণ ডেনিমের পাশাপাশি মূল্য সংযোজিত দামি স্যুট, জ্যাকেট তৈরি হয় রিসাইকেল ফেব্রিক্সে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিমানের বডি তৈরিতেও রিসাইকেল ফেব্রিক্সের ব্যবহার রয়েছে। দেশে ২০টি রিসাইকেল ফাইবারের স্পিনিং মিল রয়েছে।
জানতে চাইলে মাদার টেক্সটাইল মিলের বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রফিকুল আলম বলেন, আগে থেকেই তুলা বর্জ্য রপ্তানির নামে কিছু কিছু পাচারের ঘটনা ছিল। তবে গত ছয় মাস ধরে মিথ্যা ঘোষণায় পাচার হচ্ছে দেদার। এ কারণে তুলার বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে না। দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। বর্ধিত দরের কাঁচামালের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে দর প্রতিযোগিতায়ও টেকা যাচ্ছে না। ফলে রিসাইকেল ফেব্রিক্সের উৎপাদন প্রায় বন্ধ।
বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, পরিবেশ বিষয়ে নতুন আইন করেছে ইইউ। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ মেয়াদের এই আইনে বলা হয়, জোটভুক্ত ২৭ দেশের সীমায় প্রবেশে বস্ত্র ও পোশাক উৎপাদনে ৫০ শতাংশ নতুন তুলার সঙ্গে বিভিন্ন অনুপাতে রিসাইকেল ফাইবারের ব্যবহার থাকতে হবে। এর ফলে রিসাইকেল ফাইবারের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের তিন বছর পর থেকে ইইউর ২৭ দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বর্তমানের শুল্ক্কমুক্ত প্রবেশাধিকার থাকবে না। নিয়মিত শুল্ক্কারোপ হবে সব পণ্যে। শুধু রিসাইকেল ফাইবার পোশাকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক্কছাড় সুবিধা থাকবে। এ বিবেচনায় রিসাইকেল ফাইবারকে সরকারিভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির (ইপিএ) তথ্যমতে, বৈশ্বিক পরিবেশদূষণের জন্য বস্ত্র খাতকে দ্বিতীয় প্রধান দায়ী হিসেবে মনে করা হয়। মোট দূষণের ৮ শতাংশ দায় এ খাতের। ক্ষতিকর কার্বণ নিঃসরণে এ খাতের দায় ১০ শতাংশ। এসব কারণে বস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবেশ সচেতনতার কথা বলা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি পথনকশা করেছে ইইউ। ২০১৯ সালে নেওয়া সমন্বিত এ পথনকশার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইইউ গ্রিন ডিল’। এর আওতায় কয়েকটি খাতের পণ্যের ওপর কার্বন কর আরোপের কাজ চলছে। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
বিটিএমএর কাছে দেওয়া স্কয়ার টেক্সটাইলের চিঠিতে বলা হয়েছে. মিথ্যা ঘোষণায় ভারত এবং চীনে তুলার বর্জ্য পাচার করছে কিছু অসাধু রপ্তানিকারক। নৌপথেও পাচার হয়। তবে স্থলপথেই বেশি পাচার হচ্ছে। পাচারের কারণে রিসাইকেল ফেব্রিক্সের উৎপাদনের স্পিনিং মিলগুলো কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হতে বসেছে। এই শিল্পে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ এবং লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান রয়েছে।

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com