ব্রেকিং

x

পোশাকের বাইরে বড় খাতে রপ্তানিতে পতন

বৃহস্পতিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৩ | ৬:১৬ অপরাহ্ণ |

পোশাকের বাইরে বড় খাতে রপ্তানিতে পতন
সংগৃহীত ছবি

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস অর্থাৎ গত জুলাই-ডিসেম্বরে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেশ সন্তোষজনক। গত ডিসেম্বরে ৪৬৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। একক মাস হিসেবে এ খাতে এটাই এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়। আর সব মিলিয়ে গত ছয় মাসে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা বেড়েছে ১৫ শতাংশ। তবে পোশাকের ধারাবাহিক এই অগ্রগতির বিপরীতে বড় এবং আলোচিত বেশ কিছু খাতের রপ্তানিতে দেখা গেছে পতনের ধারা।

তৈরি পোশাকের পরই কৃষিপণ্য, পাট ও পাটপণ্য, চিংড়িসহ হিমায়িত এবং জীবন্ত মাছ, হোম টেক্সটাইল ও ওষুধকে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চামড়া, বাইসাইকেল, ফার্নিচার ও টেরিটাওয়েলও রয়েছে এ তালিকায়। গত ছয় মাসে এই পণ্যগুলোর রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে। এই পণ্যগুলো রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারেনি।

পোশাক রপ্তানি বাড়লেও বাকি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর রপ্তানি কেন কমলো- তার কারণ ব্যাখ্যায় উদ্যোক্তারা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অন্যান্য কারণে বিশ্ববাজারে চাহিদা কমেছে। মৌলিক নয়, এমন পণ্যের রপ্তানি কমছে। কোনো কোনো পণ্যের কাঁচামালের দর কমে আসায় রপ্তানিমূল্য কম পাওয়া যাচ্ছে। আবার কিছু পণ্যের কাঁচামাল ও রাসায়নিকের দর বেড়ে যাওয়ায়ও রপ্তানি কমেছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটেও স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ কারণেও রপ্তানি কমেছে।

পরিমাণে বেশি রপ্তানি হয়, এমন পণ্যের তালিকায় তৈরি পোশাকের পর রয়েছে হোম টেক্সটাইলস। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পণ্যটির রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৩ কোটি ডলার। এর বিপরীতে ৬০ কোটি ডলারের রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয় ৭২ কোটি ডলার। অর্থাৎ আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ কোটি এবং লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩৩ কোটি ডলার কম হয়েছে রপ্তানি।

হোম টেক্সটাইলের রপ্তানিকারক জাবের অ্যান্ড জুবায়ের নির্বাহী পরিচালক রাশেদ মোশাররফ বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপ-আমেরিকায় হোম টেক্সটাইল পণ্যের চাহিদা কমেছে। এ কারণে রপ্তানি আদেশ কম। প্রধান কাঁচামাল তুলার দামও গত কয়েক মাসে কম। এতে প্রায় সব ধরনের হোম টেক্সটাইলের দর কমেছে। এই দুই কারণেই অনেক দিন পর হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি কমলো।

পাট ও পাটপণ্য খাতে গত ছয় মাসে রপ্তানি হয়েছে ৪৯ কোটি ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৯ কোটি ডলার।
পাটপণ্য উদ্যোক্তা ব্যাগ বাজারের স্বত্বাধিকারী মোকতার হোসেন বলেন, পাটপণ্যে ব্যবহার হওয়া অনেক রাসায়নিকের দাম এখন বেশি। তাছাড়া গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে তাঁরা ঠিকমতো কারখানা চালাতে পারেননি। আবার যেসব কারখানা থেকে এক্সেসরিজ সংগ্রহ করা হয়, সেগুলোও একই কারণে পণ্য সরবরাহ করতে পারেনি। এসবের প্রভাব পড়েছে রপ্তানিতে।
গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে গত ছয় মাসে কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে ২৩ শতাংশ। রপ্তনিকারকরা বলছেন, বিদ্যুৎ সংকট ভুগিয়েছে তাঁদের। বিদ্যুতের অভাবে সময়মতো পণ্য প্রক্রিয়াজাত করা যায়নি। অনেক পণ্য পচে গেছে।

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com