আলোড়ন সৃষ্টি করে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হয় ক্রিকেটের জাঁকজমকপূর্ণ আসর টি-টেন লিগ। তবে সবশেষ টুর্নামেন্ট নিয়ে তোলা হয় দুর্নীতির অভিযোগ। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় পরে এসে সেই অভিযোগকেই অস্বীকার করেছে টি-টেন কর্তৃপক্ষ।
ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট এই টুর্নামেন্টকে নিয়ে ফিক্সিংয়ের অন্তত ডজন-খানেক অভিযোগ পেয়েছে। অভিযোগ ওঠার অন্যতম বড় কারণ, টি-টেন লিগের সব ফ্র্যাঞ্চাইজির স্পন্সরই কোনো না কোনো বেটিং সংস্থা। গ্যালারিতে খুব বেশি দর্শক না থাকলেও অনলাইনে বিপুল পরিমাণ অর্থ জুয়া খেলা হতো। বৃটিশ এই গণমাধ্যম দাবি করেছে, প্রতি ম্যাচে নাকি প্রায় সাড়ে আট কোটির টাকার মতো অর্থের জুয়া খেলা হতো। টুর্নামেন্টশেষে যে অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। আইসিসির মতে, প্রতিযোগিতা বিবেচনায় এই অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি।
ঐ প্রতিবেদনে ডেইলি মেইলের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ‘এশিয়ার কিছু ব্যক্তি গ্যালারিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে থাকত। প্রত্যেকের কানে ইয়ারফোন এবং হাতে মোবাইল থাকত। ব্যাঙ্গালুরু, মুম্বাই, দিল্লি এবং ঢাকার বেশ কিছু মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ওদের মধ্যে কেউ কেউ কথাই বলতে চায়নি। তবে তারা ইঙ্গিত দিয়েছ এখানে টাকা উপার্জন করা কতটা সহজ।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘টিভিতে খেলা দেখানোর আগেই অনেকে ইয়ারফোনে ম্যাচের গতিপ্রকৃতির ব্যাপারে অন্য কাউকে বলে দিত। ওরা প্রত্যেকেই জানত কোন কোন ক্রিকেটারকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আানা যায়। পুরো চিত্রনাট্য লেখা থাকত আগে থেকেই। ব্যাটারের হেলমেট বা গ্লাভস খোলা জাতীয় ইঙ্গিতের সাহায্যে বোঝানো হত যে ম্যাচ গড়াপেটা হচ্ছে। হোটেল আর বারে গিয়ে ক্রিকেটারদের গড়াপেটার প্রস্তাব দেওয়া হত।’
ইতোমধ্যে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। অবশ্য টি-টেন কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও তদন্তে শতভাগ সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছে। রোববার আবুধাবি থেকে জানানো হয়, গত বছর ২৩ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত টি-টেন লিগের ষষ্ঠ আসরে কোনও ধরনের দুর্নীতি কিংবা অবৈধ কার্যকলাপের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রতিযোগিতা নিয়ে তদন্ত করছে, এমন রিপোর্টও সত্য নয় বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ অস্বীকার করে টি টেন স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট এক বিবৃতিতে বলে, ‘যে কোনও ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পরিচালনা ও তদন্তের কাজে আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। কোনও ধরনের দুর্নীতি বিরোধী ইস্যু নিয়ে আমাদের অবহিত করা হয়নি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘একটি দায়িত্বশীল ইভেন্টের মালিক হিসেবে আমরা উচ্চ মানের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে থাকি। বিশ্বের কিছু সেরা খেলোয়াড়দের আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করি, এছাড়া স্থানীয় প্রতিভাবানদের উন্নতিতে অবদান রাখছি। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের আইসিসি, এসিসি ম্যাচ অফিসিয়াল ও রেফারিদের নিয়োগ করে থাকি।’
২০২২ সালের টি টেনের আসরে খেলেছেন বিশ্বের টি-টোয়েন্টির সব তারকা ক্রিকেটাররা। সেখানে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে রাসেল, ডোয়াইন ব্রাভো, কিয়েরন পোলার্ড এবং ইংল্যান্ডের মঈন আলীর মতো তারকারা খেলেন। সর্বশেষ আসরটিতে চ্যাম্পিয়ন হয় নিকোলাস পুরানের ডেকান গ্ল্যাডিয়েটর্স।
Development by: webnewsdesign.com