মুরগির বাজার যেন লাগামছাড়া! ইতোমধ্যেই সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লারের দাম বাড়তে বাড়তে এখন প্রতি কেজি ২২৫ থেকে ২৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকার মতো বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এতটা বাড়তি দামে ব্রয়লার মুরগি কখনো বিক্রি হয়নি। হঠাৎ এমন মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর।
রোববার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২৫ থেকে ২৩৫ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায় অর্থাৎ ৫০ টাকা হালি। দোকানে দোকানে দাম নিয়ে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার বাগবিতণ্ডা।
উত্তরার খুচরা ব্যবসায়ী সাদ্দাম বলেন, ‘আগে মানুষ মাছ কিনতে এসে মুরগি কিনে নিয়ে যেত আর এখন দাম শুনে চলে যায়। প্রতিদিন যে পরিমাণ মুরগি বিক্রি হয়েছে, এখন তা প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। গতকাল শনিবার মুরগি ২২০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। এখন বিক্রি হচ্ছে ২২৫ টাকা।’
বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহেও বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, অথচ এখন বিক্রি হচ্ছে ২২৫-২৩০ টাকায়। আর ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকা। যা আগে ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি ২৩০-২৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ থেকে ৩১৫ টাকা হয়েছে। বাজারের অবস্থা আমরা নিজেরাই অনুমান করতে পারছি না। প্রতিদিনই বাড়ছে। খাদ্যের দাম বাড়ায় অনেক খামারি উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন।
টঙ্গীর মুরগি বিক্রেতা হোসেন বলেন, ‘তিন দিন আগেও ব্রয়লার মুরগি ২১০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৯০ টাকা বিক্রি করেছি। এখন সোনালি মুরগি ৩২০ এবং ব্রয়লার বিক্রি করছি ২২৫ টাকা। গত সাত দিন ধরে দাম বাড়ছে। আমাদের কিনতে হয় বেশি দিয়ে কিন্তু ক্রেতারা সেটা বুঝতে চায় না।’
মালিবাগ বাজারের ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, ‘এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে গেছে। আগে হালি ছিল ৪০-৪২ টাকা। আজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। আগে ১০০ ডিম ৯৮০ থেকে ১ হাজার ১০ টাকার মধ্যে কিনতে পারতাম। এখন ১০০ ডিম কিনতে ১ হাজার ১০০ টাকা লাগছে।’
উত্তরার বাজারে মুরগি কিনতে আসা গার্মেন্টস শ্রমিক লিপি বলেন, ‘সবকিছুর দাম বাড়ে কিন্তু আমাদের বেতন বাড়ে না। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি কিনলাম ১৭৫ টাকা কেজি। আজ বাজারে দাম ২২০, কোথাও ২৩০ টাকা। আমাদের সীমাবদ্ধ আয় দিয়ে ব্রয়লারের মাংস খাওয়াটাও অসাধ্য হয়ে গেছে।’
Development by: webnewsdesign.com