ব্রেকিং

x

ঐতিহাসিক জয়

রবিবার, ১২ মার্চ ২০২৩ | ৮:৫৩ অপরাহ্ণ |

ঐতিহাসিক জয়
সংগৃহীত ছবি

এক ম্যাচ হাতে রেখেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

রোববার (১২ মার্চ) মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ইংলিশদের ৪ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা। এক ম্যাচ আগেই প্রথমটিতে জেতা স্বাগতিকদের জন্য নিশ্চিত হয়েছে সিরিজও।

তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয়টিতে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড পায় ১১৭ রানের সংগ্রহ। ৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছায় স্বাগতিকরা।

মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠান টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

আগে ব্যাটিংয়ে নামা ইংলিশদের শুরুতেই চাপে ফেলে বাংলাদেশ। ৮ বলে ৫ রান করা ডেভিড মালান ইনিংসের তৃতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদের শিকার হন। ক্যাচ নেন হাসান মাহমুদ। এরপর ফিল সল্ট চালিয়ে খেলছিলেন। ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৫০ রান তুলে নেয় ইংল্যান্ড।

তবে পাওয়ার প্লে শেষ হতেই আঘাত হানেন সাকিব। ফিরিয়ে দেন ভয়ংকর হতে চাওয়া সল্টকে (১৯ বলে ২৫)। ঘূর্ণি জাদুতে পরাস্ত করে সাকিব নিজেই নেন ফিরতি ক্যাচ।

এরপর অষ্টম ওভারে ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলারকে (৪) চোখ ধাঁধানো এক ইয়র্কারে বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ। মঈন আলি (১৭ বলে ১৫) চাপ সামলাবেন কি, তার ঠিক পরের ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজকে তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ হন। ৭ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে রীতিমত ধুঁকতে থাকে ইংল্যান্ড।

সেখান থেকে স্যাম কারান আর বেন ডাকেট হাল ধরতে চেয়েছিলেন। ৩২ বলে ৩৪ রানের জুটি গড়েন তারা। কিন্তু ইনিংসের ১৫তম ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজ জোড়া ধাক্কা হানেন ইংলিশ শিবিরে।

মিরাজের টার্ন বুঝতে না পেরে এগিয়ে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন স্যাম কারান (১৬ বলে ১২) আর ক্রিস ওকস (০)। ৯১ রানে ৬ উইকেট হারায় ইংলিশরা।

স্বীকৃত ব্যাটার বলতে ছিলেন কেবল বেন ডাকেট। শেষ ওভার পর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজুর রহমানের বলে মারতে গিয়ে বল আকাশে ভাসিয়ে দেন ডাকেট। ২৮ বলে ২৮ করে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি।

মিরাজ ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন। ৪ ওভারে ১২ রান দিয়ে একাই নিয়েছেন ৪টি উইকেট। একটি করে উইকেট সাকিব, হাসান মাহমুদ, তাসকিন আর মোস্তাফিজের।

রান তাড়ায় নেমে প্রথম দুই ওভারে ১৫ রান তোলেন লিটন দাস আর রনি তালুকদার। কিন্তু লিটন চলতি সিরিজে আরও একবার ব্যর্থতার পরিচয় দেন। দায়িত্বজ্ঞানহীন পুল খেলতে গিয়ে স্যাম কারানকে উইকেট দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার (৯ বলে ৯)।

এরপর রনিও (১৪ বলে ৯) খেলেন উচ্চাভিলাষী শট। জোফরা আর্চারকে পুল করতে গিয়ে ধরা পড়েন মিডঅনে। ২৭ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে টাইগারদের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৩২ রান।

তৌহিদ হৃদয় খেলছিলেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে তার ৩১ বলে ২৯ রানের একটি জুটিও গড়ে উঠে। কিন্তু অভিষিক্ত ইংলিশ লেগস্পিনার রেহান আহমেদ বল হাতে নিয়েই হৃদয়কে ফাঁদে ফেলেন। রেহানের বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারি কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন হৃদয় (১৮ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৭)।

৫৬ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজকে নামিয়ে চমক দেয় বাংলাদেশ। বোলিংয়ের হিরো মিরাজ ক্রিজে এসে ব্যাট হাতেও ধরেন হাল। শান্তর সঙ্গে মিলে চতুর্থ উইকেটে আনেন ৩২ বলে ৪১ রান। গুরুত্বপূর্ণ এই জুটিই গড়ে দেয় ম্যাচের গতিপথ। ১৬ বলে ২০ রানের মাঝারি কিন্তু ভীষণ কার্যকর ইনিংস খেলে যান মিরাজ।

তার বিদায়ের পর দ্রুত সাকিব ও আফিফ হোসেনকে হারায় বাংলাদেশ। মঈন আলির বলে কোন রান না করে ক্যাচ দিয়ে যান সাকিব। জোফরা আর্চারের গতিতে পরাস্ত হয়ে আফিফের বেল উড়ে যায় বাউন্ডারি লাইনে।

পরে ক্রিস জর্ডানের করা ১৯তম ওভারে তাসকিন আহমেদ দুই বাউন্ডারিতে শেষ করে দেন ম্যাচ।

এদিকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনও দ্বিপাক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেনি বাংলাদেশ, এবারই প্রথমবার দেখা। আর সেই দেখাতেই হয়ে গেলো ইতিহাস।

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com