ব্রেকিং

x

উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে দিচ্ছে নগদ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ | ২:২০ অপরাহ্ণ |

উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে দিচ্ছে নগদ
সংগৃহীত ছবি

শীত হোক, আর বৃষ্টি কোনো কিছুই এখন আর বাচ্চাদের স্কুল যাওয়া থেকে আটকে রাখতে পারে না। শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার প্রায় শূন্যের কাছে চলে এসেছে। আর এর জন্য বড় একটা অবদান রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তির।

কেবল প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি নয়, সরকার এখন শিক্ষা উৎসাহিত করতে প্রদান করছে মাধ্যমিকের উপবৃত্তিও। এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী শিক্ষা ভাতা বিতরণ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ভাতাও। আর এই সবগুলো ভাতা শিক্ষার্থীদের পরিবারের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দিচ্ছে মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ।

প্রাথমিকের উপবৃত্তি প্রদানে নগদের সাফল্য রীতিমতো ঈর্ষনীয়। দেশের নানা প্রান্তে এই উপবৃত্তি বদলে দিয়েছে শিক্ষার চিত্র। একটা সময় স্কুলগুলোতে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের যাতায়াত বেশ কমে গিয়েছিলো। বাড়ছিলো ঝরে পড়া শিশুর হার। সেই সময়ে এইসব শিশুদের জন্য এক দারুন প্রেরণা হয়ে আসে সরকারের উপবৃত্তি। শিক্ষক, অভিভাবকরা বলছেন, এই উপবৃত্তির কল্যানেই এখন আবার জমজমাট হয়েছে স্কুলগুলো। আর সে জন্য তারা ধন্যবাদ দিচ্ছেন নগদকে।

সরকার অনেকদিন ধরেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য উপবৃত্তি দিচ্ছে। কিন্তু শুরুতে সেখানে ছিলো দারুন এক নৈরাজ্য। যে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে উপবৃত্তি বিতরণ করা হতো, তাদের ছিলো না স্বচ্ছতা। একই সাথে হাতের কাছে তাদের এজেন্টও না থাকায় টাকা বের করতে জটিলতায় পড়তে হত অভিভাবকদের।

সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা নগদের সঙ্গে চুক্তি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আর তারপর থেকেই সুফল মিলছে এই উপবৃত্তি প্রদানে। এই সাফল্যের কারণেই আবারও নগদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী উপবৃত্তি বিতরণের জন্য চুক্তি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

এভাবেই নগদের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা হাতে পেয়ে খুশি বরিশালের স্কুলগুলোর শিক্ষক, অভিভাবকরা। শহরের গীর্জা মহল্লার ইসলামিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিক মাতোয়ারা বেগম বলেন, ‘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই এ কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের উপবৃত্তি দিয়ে বিদ্যালয়ে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। উপবৃত্তি পাওয়ার ফলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে। কমেছে ঝরে পড়ার হার। এটা সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মানকে অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের জন্য অসাধারণ একটা ব্যাপার।’

তিনি একইসঙ্গে নগদকেও ধন্যবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ডাক বিভাগের একটি সেবা হিসেবে নগদ খুব ভালো দায়িত্ব পালন করছে। নগদ এই দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উপবৃত্তি পাওয়ায় ভোগান্তি নেই বললেই চলে। এখন অভিভাবকরা বাড়ির কাছ থেকেই টাকা তুলে নিতে পারছেন।

নগদকে ধন্যবাদ দেওয়ার পরিষ্কার কারণও আছে। এই দায়িত্বটা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করছে এইএমএফএস প্রতিষ্ঠানটি। সকল শিক্ষার্থীর নাম, জন্ম নিবন্ধন সনদসহ শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইল নম্বর নিয়ে একটি ডেটাবেজ তৈরি করেছে নগদ। ফলে এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ভুয়া সুবিধাভোগীর নাম। নগদ কেবল শিক্ষার্থীদের দিকটা দেখছে তা নয়, তাদের এই কাজে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। এর আগে ভিন্ন একটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ করত সরকার। তখন প্রতি হাজার টাকার উপবৃত্তি বিতরণ করতে সরকারের কাছ থেকে সাড়ে ২১ টাকা করে সার্ভিস চার্জ এবং ক্যাশ-আউট চার্জ নিত। সেখানে নগদ সব মিলে সরকারের কাছ থেকে নিচ্ছে হাজারে মাত্র সাত টাকা। সুবিধাভোগী মূল টাকার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাশ-আউটের খরচও পেয়ে যাচ্ছেন, ফলে গ্রাহককে বাড়তি কোনো অর্থ খরচ করত হচ্ছে না। শুধু ভাতা বিতরণে এই প্রক্রিয়ায় সরকারের অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার সাশ্রয় হয়েছে।

একইভাবে নগদের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিক্ষা ভাতা পাওয়াতে বদলে গেছে অনেক পরিবারের চিত্র। একসময় প্রতিবন্ধী শিশু ছিলো পরিবারের জন্য বোঝা। তাদের পড়াশোনা করানোটা ছিলো একটা অসম্ভব স্বপ্ন। সেই স্বপ্নটাই বাস্তব করেছে এই ভাতা।

গাজীপুরের ভাওয়াল ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী শিশু ফাহমিদার মা বলছিলেন, ‘আমার মেয়ে কথা বলতে পারে না তেমন। হাঁটা- চলা করতেও সমস্যা হয়। একটা সময় কল্পনাও করিনি যে এই মেয়ে স্কুলে আসতে পারবে। সরকার এখন ওদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সেইসঙ্গে ভাতা দিচ্ছে। নগদের মাধ্যমে টাকাটা পাচ্ছি। ফলে কোথাও গিয়ে টাকা তোলার জন্য লাইন দিতে হয় না।’

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com