দেশের জাতীয় আয় ও রাজস্বের অনুপাত বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। তিনি বলেন, কর ব্যবস্থার হারের গড়মিলের কারণে দাতাকে অনেক সময় নির্ধারিত করের চেয়ে বেশি প্রদান করতে হচ্ছে, যা কাম্য নয়।
রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামগ্রিক পর্যালোচনা শীর্ষক’ সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মসিউর রহমান বলেন, গত কয়েক দশকে আমাদের অর্থনীতির মৌলিক পরিবর্তন এসেছে, তার মধ্যে বেসরকারিখাতের সম্প্রসারণ অন্যতম। এ অবস্থায় যেনকোনো নীতির সফল বাস্তবায়ন হবে না, যদি না ব্যক্তিখাতের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে মূল্যায়ন করেই নীতি প্রণয়ন না হয়। সেই সঙ্গে বেসরকারিখাতকে সব সমস্যা সমাধানে সরকারের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ প্রদান করেন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যাসমূহ কোনো দেশে এককভাবে সমাধান করতে পারবে না। কর ব্যবস্থাপনা নিয়ে পুরোনো কথাবার্তা এখনও চলছে, বিষয়টি নিয়ে আরো গভীরভাবে পর্যালোচনা প্রয়োজন।
বিনিয়োগ বিষয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগে স্থাবিরতা কাটাতে বিদেশি বিনিয়োগের আকর্ষণের কোনো বিকল্প নেই। তবে বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো প্রাপ্তিতে সরকারের এগিয়ে আসতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নীতির স্থিতিশীলতার কোনো বিকল্প নেই। রপ্তানি পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণে কারো কোনো দ্বিমত নেই, তবে নতুন পণ্য। নতুন বিনিয়োগ বিষয়ে নানামুখী চাপও রয়েছে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আমাদের আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি সিএমএসএমইদের ঋণ প্রাপ্তির সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারিখাতের সমন্বয়ে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরিতার কারণে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় বাজারে পণ্য মূল্য বেড়েছে। বিদ্যমান অবস্থা মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমদানি-রপ্তানি ও রেমিট্যান্স মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি হিসাব ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।
তিনি জানান, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে সমন্বয় আনয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে, ক্রলিং পেগ পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে এক্ষেত্রে স্বস্তি আসবে। মূল্যস্ফীতি না কমা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমুখী নীতি অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২ বছরের মধ্যে শিল্পখাতে খেলাপি ঋণ ৮ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, কর ব্যবস্থাপনা ও কর আদায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনয়ন অপরিহার্য। শিল্পখাতের প্রয়োজনের নিরিখে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আমাদের শিক্ষাখাতের সংস্কার ও বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার ওপর আরও অধিক হারে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য আমরা এখনও প্রস্তুত নয়, যেটা উদ্বেগের বিষয়। এছাড়াও তিনি বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। বেজা, বেপজা এবং ইকোনোমিক জোনগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন।
পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট (পিআরআই)-এর সিনিয়র ইকোনোমিস্ট ড. আশিকুর রহমান বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক আকাঙ্খা রয়েছে। তবে সেখানে সময়মত পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেই। অর্থনৈতিক আকাঙ্খা পূরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইনোভেশনের উপর অধিক হারে মনোনিবেশ করার প্রতি তিনি আহ্বান জানান তিনি। বলেন, বর্তমানে আমাদের কর জিডিপির অনুপাত ১০ শতাংশ, যেটি বাড়াতে আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি জানান, খেলাপি ঋণ দেশের বেসরকারিখাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
Development by: webnewsdesign.com