ব্রেকিং

x

রপ্তানি বন্ধ হলেও ভারতে ইলিশ পাচার থেমে নেই

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ |

রপ্তানি বন্ধ হলেও ভারতে ইলিশ পাচার থেমে নেই
সংগৃহীত ছবি

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করা হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যেও এবার ভারতে ইলিশ যাবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে টনের পর টন ইলিশ ত্রিপুরায় যাচ্ছে। হামজা সিন্ডিকেট এই ইলিশ পাচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, কুমিল্লার তিন উপজেলার অন্তত ৭টি পয়েন্ট দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইলিশ পাচার হচ্ছে। সীমান্তগুলো হলো-নিশ্চিন্তপুর, বড়জ্বালা, গোলাবাড়ী, শঙ্কুচাইল, শশীদল, চড়ানল ও খারেরা সীমান্ত। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে হামজা সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতি রাতেই কুমিল্লার বাজার থেকে প্রায় সব ইলিশ তুলে নিয়ে যাচ্ছে তারা। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রপ্তানি বন্ধ থাকায় ভারতে এখন ইলিশের চাহিদা আকাশচুম্বী। দামও অনেক বেশি। এই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া এই সিন্ডিকেট। স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও নোয়াখালীর অধিকাংশ ইলিশই চলে যাচ্ছে ভারতে। পাচারের কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে ন্যায্যমূল্যে মিলছে না দেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। জানা গেছে, হামজা সিন্ডিকেটের প্রধান আমির হামজার বাড়ি কুমিল্লা সীমান্তের নিশ্চিন্তপুরে। তিনি ওই এলাকার আলী আজ্জমের ছেলে। তাকে সীমান্তের চোরাচালানের হোতা বলা হয়। কয়েকশ চোরাকারবারির নেতৃত্ব দেন তিনি। ইলিশ পাচারের পাশাপাশি চিনি, শাড়ি, মোবাইল, থ্রিপিস, মসলাসহ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য চোরাইপথে দেশে আনছে হামজা ও তার সহযোগীরা।

১২ সেপ্টেম্বর রাতে ভারতে পাচারের সময় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদলের মনোরা থেকে ৪৪০ কেজি ইলিশ জব্দ করে বিজিবি। পরে ৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় ইলিশগুলো নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এর আগের দিন অবৈধভাবে ভারতে পাচারের সময় বুড়িচং উপজেলার খাড়েরা সীমান্ত থেকে ৬২০ কেজি ইলিশ জব্দ করে বিজিবি। পরে ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকায় সেগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়। খারেরা সীমান্তের বাসিন্দা মুকুল হোসেন বলেন, এই সীমান্ত দিয়ে ইলিশসহ যা যা পাচার হয় সব আমির হামজার মাল। সে আদর্শ সদর থেকে কসবা পর্যন্ত এলাকার সব চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে।

চড়ানল এলাকার বাসিন্দা বশির আহমেদ বলেন, প্রতি রাতেই টনে টনে পিকআপভর্তি ইলিশ ভারতে যাচ্ছে। অথচ আমরা বাজারে গেলে ইলিশ পাই না। আমির হামজা সিন্ডিকেট সব ইলিশ পাচার করে দিচ্ছে। ইলিশের যে দুটি চালান বিজিবির হাতে ধরা পড়েছে সেগুলো আমির হামজারই চালান ছিল।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহিদা আক্তার বলেন, বিজিবি, পুলিশসহ অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পাচার রোধে কাজ করছে। সরকারি নির্দেশনায় সীমান্তের দিকে আমরা আরও সজাগ দৃষ্টি রাখছি।

বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এমএ জাবের বিন জব্বার বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি তৎপর রয়েছে। ইলিশের বড় দুটি চালান আমরা আটক করেছি। কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে কোনোভাবেই যেন ইলিশ পাচার না হয় সে বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে বিজিবি সব সময় সোচ্চার।

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com