ব্রেকিং

x

উত্তরে কমছে পানি বাড়ছে ভাঙন

মঙ্গলবার, ০১ অক্টোবর ২০২৪ | ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ |

উত্তরে কমছে পানি বাড়ছে ভাঙন
সংগৃহীত ছবি

উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে ফুলেফেঁপে ওঠা তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে উত্তরের জনপদে বন্যার উন্নতি হয়েছে। তবে বানভাসির দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না। পানি কমার সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। আকস্মিক এ বন্যায় রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পানি ওঠায় অনেক স্কুল এখনও বন্ধ। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসল ও মাছের। লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি আছে। তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার নদীর পানি কমে আগামী তিন দিনে উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে আজ মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে টানা চার দিন বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে নতুন করে অনেক এলাকায় আবার পানি বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, রোববার তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল, সেটি সোমবার ডালিয়া এবং কাউনিয়া দুই পয়েন্টেই নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রংপুর বিভাগের তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কমছে। অন্যদিকে ধরলার পানি স্থিতিশীল আছে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা-সংলগ্ন চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, বিশেষ করে সিলেটে ভারী বৃষ্টি ও ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম অঞ্চলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। দেশের অন্যান্য জায়গায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তিনি বলেন, আজ ঢাকার আবহাওয়া মেঘলা থাকবে। কিছুটা বৃষ্টিরও সম্ভাবনা আছে।

সমকালের রংপুর অফিস জানায়, উঠতি আমন ধান ও শীতকালীন শাক-সবজির ক্ষেতসহ ডুবেছে বিভিন্ন ফসলি জমি। প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায়। গতকাল বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানি নেমে যাওয়ায় লোকজন তাদের বাড়িতে ফিরছে। তবে ঘরবাড়িতে থকথকে কাদা।

রংপুরের গঙ্গাচড়ার মর্ণেয়া ইউনিয়নের আলালটারী গ্রামের মনছুর আলী ও আলেপজন বেওয়া বলেন, ‘পানি তো কমলো, তয় হামার বাড়িঘর তছনছ হয়্যা গেইচে। এইগলা ভালো করার মতন টাকাও নাই।’ কৃষি বিভাগ জানায়, এবার বন্যায় রংপুরে রোপা আমন, শাক-সবজিসহ ২০০ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়। আদিতমারীর মহিষখোচা ইউনিয়নের বাহাদুর পাড়া, গরীবুল্লাহপাড়া, চৌরাহা, গোবর্দ্ধন, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, তাজপুর, হরিনচড়া ও গোকুণ্ডা এলাকায় নদীভাঙন প্রকট হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে।

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, চরগতিয়াশাম, খিতাবখাঁসহ কয়েকটি গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ডায়েরিয়া, জ্বর ও সর্দির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
বেরোবি সংবাদদাতা জানান, দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে এ মানববন্ধন হয়।

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com