ব্রেকিং

x

চার ব্যাংক পাচ্ছে ৯৪৫ কোটি টাকার বিশেষ ধার

বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৪ | ১২:৩৫ অপরাহ্ণ |

চার ব্যাংক পাচ্ছে ৯৪৫ কোটি টাকার বিশেষ ধার
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে দুর্বল চার ব্যাংক ৯৪৫ টাকার বিশেষ ধার পাচ্ছে। এর মধ্যে সিটি ব্যাংক একাই দিচ্ছে ৭০০ কোটি টাকা। বাকি ২৪৫ কোটি টাকা দিচ্ছে বেসরকারি আরও চারটি ব্যাংক।

সাড়ে ১২ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত সুদে সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ন্যাশনাল ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এই টাকা নিচ্ছে। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, এক্সিম ও ইউনিয়ন ব্যাংকের বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। বিগত সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এসব ব্যাংক সংকটে পড়েছে। যদিও সামগ্রিকভাবে কিছু ব্যাংকে অনেক উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বেশি সংকটে রয়েছে এস আলমের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত ব্যাংকগুলো। বিভিন্ন উপায়ে এসব ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে বিপুল অঙ্কের অর্থ বের করে নিয়েছে গ্রুপটি। সেই অর্থের বেশির ভাগই পাচার হয়েছে। বেশ আগে থেকে এসব ব্যাংক সংকটে থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এতদিন অনৈতিক নানা সহায়তা দিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণ করতে পারেনি। এরপরও আরও টাকা বের করার সুযোগ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাবে ঘাটতি রেখে লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এস আলমের সাতটিসহ ১১টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আবার আগের মতো চলতি হিসাব ঘাটতি রেখে বেআইনি উপায়ে লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব কারণে সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকার পতনের পরই মানুষের হাতে টাকার পরিমাণ ব্যাপক বাড়ছিল। তবে গত ১৮ আগস্টের পর থেকে আবার ব্যাংকে টাকা জমা বাড়ছে। যে কারণে নোটস ইন সার্কুলেশন বা প্রচলনে থাকা নোটের পরিমাণ দ্রুত কমে আসছে। প্রচলনে থাকা নোটের পরিমাণ গত রোববার ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে। সরকার পতনের পর গত ১৮ আগস্ট যা বেড়ে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২২ হাজার ২৭১ কোটি টাকায় উঠেছিল। এর মানে মানুষের হাতে থাকা টাকা আবার ব্যাংকে ফিরছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ফিরেছে নিট ১৩ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। এর আগে সরকার পতনের পরদিন গত ৬ আগস্ট কারেন্সি ইন সার্কুলেশন ছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। সেখান থেকে ১২ দিনে বাড়ে ৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।

কোন ব্যাংক কত টাকা পাচ্ছে : বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ৩৫০ কোটি টাকা পাচ্ছে। এর মধ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ সুদে ৩০০ কোটি টাকা দিচ্ছে সিটি ব্যাংক। আর ১৩ শতাংশ সুদে ৫০ কোটি টাকা দিচ্ছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পাচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ সুদে ২০০ কোটি টাকা দিচ্ছে সিটি ব্যাংক। আর মিউচুয়াল ট্রাস্ট সাড়ে ১২ শতাংশ সুদে ৫০ কোটি এবং ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক ১৩ শতাংশ সুদে দিচ্ছে ৫০ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকের ২৭০ কোটি টাকার মধ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ সুদে ২০০ কোটি টাকা দিচ্ছে সিটি ব্যাংক। আর মিউচুয়াল ট্রাস্ট ১৩ শতাংশ সুদে ৫০ কোটি এবং বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক দিচ্ছে ২০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে ১৩ শতাংশ সুদে ২৫ কোটি টাকা দিচ্ছে ইস্টার্ন ব্যাংক। ব্যাংকগুলো তিন মাস মেয়াদে এ অর্থ পেয়েছে। তবে আরও তিন দফায় এক বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এই চার ব্যাংকের বাইরে আরও তিনটি ব্যাংকের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি সই হয়েছে। তারাও শিগগিরই টাকা পাবে। টাকা নেওয়ার জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনসহ যেসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, গতকাল পর্যন্ত তা হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার হয়তো এটা সম্পন্ন করে এলে তারা টাকা নিতে পারবে। তবে কোন ব্যাংককে কে কত টাকা দেবে এরই মধ্যে তা ঠিক হয়ে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টির পরও দুর্বল ব্যাংককে ধার দিতে রাজি হচ্ছিল না ভালো ব্যাংক। যে কারণে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বেশি তারল্য থাকা ১০টি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। সেখানে টাকা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, কোনো কারণে এসব ব্যাংক নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দিতে না পারলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিন দিনের মধ্যে ফেরত দেবে। এরপর এসব ব্যাংক টাকা দিচ্ছে।

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com