দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধোনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ থাকলেও দেশে জ্বালানি তেলের কোনও সংকট হবে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে উপস্থাপন করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে বছরের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ করে ইআরএল, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন। বছরের শুরুতে নেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি মাসে সাধারণত ১-২টি কার্গো আমদানির মাধ্যমে ইআরএলের উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়। দেশের চাহিদা অনুযায়ী অবশিষ্ট জ্বালানি তেল পরিশোধিত আকারে আমদানি করা হয়। ফলে তেল আমদানি অব্যাহত থাকায় সংকটের শঙ্কা নেই।
বাংলাদেশের একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি মূলত সৌদি আরবের সৌদি এরামকো থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল (এএলসি) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিভিত্তিক এডনক থেকে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানি করে পরিশোধন করে থাকে।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ডিজেলের চাহিদা ছিল ৪৭ লাখ ৪২ হাজার মেট্রিক টন, যার বিপরীতে ইআরএল থেকে পাওয়া গেছে ৭ লাখ ৩২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন (১৫.৪৪ শতাংশ)। অকটেনের চাহিদা ছিল ৪ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন, যার পুরোটাই আমদানি করা হয়েছে।
অপরদিকে, পেট্রোলের চাহিদা ছিল ৪ লাখ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন, যার বিপরীতে ইআরএল দিয়েছে ৫৮ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন (১১.৯২ শতাংশ)। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উপজাত হিসেবে ইআরএল থেকে পাওয়া যায়। তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ডিজেলের চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ এবং পেট্রোলের প্রায় ১১ শতাংশ ইআরএল থেকে সরবরাহ হয়। বাকিটা আমদানি করেই পূরণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় মার্চ ও এপ্রিল মাসের নির্ধারিত ৩ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি সম্ভব হয়নি। মার্চ মাসের প্রথম পার্সেলের ১ লাখ মেট্রিক টনের কার্গো লোড সম্পন্ন হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে হরমুজ অতিক্রম করতে পারেনি এবং বর্তমানে রাস্তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। একই মাসের দ্বিতীয় পার্সেলের ১ লাখ মেট্রিক টন মারবান ক্রুড অয়েলের চালান সরবরাহকারী ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছে।
এদিকে এপ্রিল মাসের নির্ধারিত ১ লাখ মেট্রিক টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েলের কার্গো ২০ এপ্রিল লোডিং সম্পন্ন করে ২-৩ মে’র মধ্যে বিকল্প বন্দর ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। মে মাসে ১ লাখ মেট্রিক টন মারবান ক্রুডের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১ লাখ মেট্রিক টন এএলসি সরবরাহের জন্য সৌদি আরামকোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জরুরি চাহিদা পূরণে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানির জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে কার্যাদেশ জারি করা হয়েছে বলে জ্বালানি বিভাগ জানায়৷
তবে মার্চ মাসের নির্ধারিত অপরিশোধিত তেল সময়মতো না পৌঁছায় বর্তমানে ইআরএল সীমিত সক্ষমতায় (লো-ফিডে) চালু রাখা হয়েছে। ইআরএলের মোট ৪টি ইউনিটের মধ্যে ২টি মেইনটেন্যান্সে এবং ২টি চালু রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করছে। ফলে ইআরএল সীমিত সক্ষমতায় চালু থাকলেও জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না এবং এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
Development by: webnewsdesign.com