গ্রামীণফোন লিমিটেডের ২৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুসরণ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এজিএম আয়োজন করা হয়, যা শেয়ারহোল্ডারদের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। সভায় ২০২৫ সালের জন্য মোট ২১৫ শতাংশ লভ্যাংশ (অন্তর্বর্তীকালীনসহ) চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে ১০৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এজিএম-এ গ্রামীণফোন বোর্ডের চেয়ারম্যান জন ওমুন্ড রেভহাগ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) অটো মাগনে রিসব্যাক, কোম্পানি সেক্রেটারি এস. এম. ইমদাদুল হকসহ বোর্ড সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চেয়ারম্যান জন ওমুন্ড রেভহাগ বলেন, ২০২৫ সাল ছিল স্থিতিশীল অগ্রগতির বছর। তিনি বলেন, বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কোম্পানি গ্রাহকসেবা, সংযোগের মান উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিতে কাজ করে গেছে।
তিনি আরও বলেন, একটি নিরাপদ ও স্মার্ট ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠনে গ্রামীণফোন নির্ভরযোগ্য সংযোগ, দক্ষ নেটওয়ার্ক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যাবে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান জানান, ২০২৫ সালে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৩৯ লাখ, যার মধ্যে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। একই সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কোম্পানি ডিজিটাল ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করেছে, ফাইভজি সম্প্রসারণ করেছে এবং মাইজিপি অ্যাপের মাধ্যমে ২ কোটি ২৫ লাখের বেশি ব্যবহারকারীকে সেবা দিচ্ছে।
এছাড়া তিনি জানান, গ্রামীণফোন এআই-নির্ভর টেলিকম কোম্পানি হিসেবে নেটওয়ার্ক অপারেশন, গ্রাহকসেবা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা (২৯.৬ বিলিয়ন)।
সভায় শেয়ারহোল্ডাররা ২০২৫ সালের জন্য পরিশোধিত মূলধনের ওপর ২১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেন। প্রতি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ২১ টাকা ৫০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়, যা ওই বছরের কর-পরবর্তী মুনাফার ৯৮.২ শতাংশ।
Development by: webnewsdesign.com