ব্যবসা-বাণিজ্যে বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত করে জানালে আগামী তিন মাসের মধ্যে সেগুলোর সমাধান করা হবে বলে ব্যবসায়ীদের জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আগামী বাজেটে করের ক্ষেত্রে ব্যাপক ছাড় দেওয়ার সুযোগ সীমিত বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটির আয়োজন করে এনবিআর ও এফবিসিসিআই।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে করের ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ব্যবসা সহজ করতে যেসব আনুষঙ্গিক বাধা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত দূর করা হবে।
তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোথায় কোথায় ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কোন কারণে ব্যয় বাড়ছে এসব নির্দিষ্টভাবে জানান। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হোক বা অন্য কোনো সমস্যা আপনারা আমাদের জানান, আমরা তিন মাসের মধ্যে সমাধান করবো।
বন্দর খরচ বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ বলেছে পোর্টে ৪০ শতাংশ খরচ বেড়েছে। আমি এর বিরোধিতা করি। কোনো যুক্তিসঙ্গগত কারণ নেই। বন্দরে দুর্নীতি ও অদক্ষতা থাকলে তা দূর করা হবে।
তিনি আরও জানান, সরকার কর আদায় বাড়াতে চায়, কারণ রাজস্ব না বাড়লে ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
দেশজুড়ে ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড ওয়ান ওয়ালেট চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সব লেনদেন নজরদারির আওতায় আসবে, ফলে কর ফাঁকি কমবে এবং দুর্নীতি হ্রাস পাবে। প্রকল্পটি এরই মধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে।
এছাড়া আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বকেয়ার কথাও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী, যা বর্তমান অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে তিনি জানান।
এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খানসহ বিভিন্ন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
Development by: webnewsdesign.com