বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে পাকিস্তানের করাচিভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক এইচবিএল। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক খাতের সঙ্গে পাঁচ দশকের অংশীদারত্বের এ মাইলফলক উদযাপনের মাধ্যমে ব্যাংকটি তার দীর্ঘ পথচলাকে স্মরণ করেছে।
১৯৭৬ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে এইচবিএল গ্রাহকদের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রবাহে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনে ভূমিকা রেখে আসছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এইচবিএল আয়োজিত ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে ব্যাংকের গ্রাহক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এইচবিএলের চেয়ারম্যান সুলতান আলী আল্লানা এবং ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাসির সেলিম অংশ নেন।
গত পাঁচ দশকে এইচবিএল বাংলাদেশে একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে সহায়তা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সঙ্গে তার সংযোগ আরও গভীর করছে, তখন এইচবিএল তার আন্তর্জাতিক উপস্থিতি ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে।
এইচবিএলের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি স্বতন্ত্র সুবিধা দিয়ে থাকে। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের মাত্র তিনটি ব্যাংকের মধ্যে এইচবিএল অন্যতম, যারা চীনে প্রান্ত-থেকে-প্রান্ত আরএমবি মধ্যস্থতা সেবা দিয়ে থাকে।
চীনে এইচবিএলের বেইজিং শাখা ব্যাংকটির দ্বিতীয় শাখা ও ব্যবস্থাপনা কার্যালয় হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে বেইজিং ও উরুমচি—উভয় শাখাই বৈদেশিক মুদ্রা ও আরএমবি-সংক্রান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত। ফলে গ্রাহকদের বহুমুদ্রাভিত্তিক আর্থিক চাহিদা পূরণে আরও কার্যকর সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
চীনে এইচবিএলের উপস্থিতি ব্যাংকটিকে চায়না-পাকিস্তান ইকোনোমিক করিডর (সিপিইসি) এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ করিডর (বিআরআই) করিডোর-সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়।
এছাড়া পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত , কেনিয়া এবং অন্যান্য দেশে অবস্থিত এইচবিএলের গ্রাহকেরা নিজ নিজ দেশে এবং চীনে এইচবিএলের বিশ্বমানের পণ্য ও সেবার সুবিধা নিতে পারেন।
পঞ্চাশ বছর পরও এইচবিএল বাংলাদেশের প্রতি এবং তার গ্রাহকদের নতুন সুযোগ অনুসন্ধান, বিভিন্ন বাজারে সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টায় সহায়তা প্রদানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপকে সমর্থন করতে ব্যাংকটি তার আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের শক্তি ও সক্ষমতাকে ভবিষ্যতেও কাজে লাগিয়ে যাবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
Development by: webnewsdesign.com