খেলাপি ঋণ আদায়ে এবার গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসি। ২৯ জন খেলাপি গ্রাহকের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, বকেয়া অর্থ ও মামলা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ পরিশোধে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর দিলকুশায় জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসে এ বৈঠক হয়। এতে ব্যাংকের পরিচালক আব্দুল মজিদ, আব্দুল আওয়াল সরকার ও খন্দকার মামুন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মজিবুর রহমান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও মহাব্যবস্থাপকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে খেলাপি গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিলসহ ঋণ পরিশোধের সুযোগগুলো জানানো হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে চলমান মামলাসহ আইনি কার্যক্রমে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
জনতা ব্যাংকের এমডি মজিবুর রহমান বলেন, ২৯ জন খেলাপি গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়েছে। তাদের ঋণ পরিশোধের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে না। আশা করা হচ্ছে, ডিসেম্বরের মধ্যে ভালো পরিমাণ ঋণ আদায় সম্ভব হবে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, খেলাপিদের মধ্যে যারা ঋণ পরিশোধে আগ্রহী, তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও পরিশোধ পরিকল্পনা যাচাই করা হচ্ছে। কারও ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মতভাবে ঋণ আদায়ের সুযোগ থাকলে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো সিদ্ধান্তই পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া নেওয়া হবে না।
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ‘রিকভারি হেড-টু-হেড’ বৈঠকের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত খেলাপিদের আলাদা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া এক গ্রাহকের প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রায় ২০ বছর ধরে বিভিন্ন সুবিধা ও সময় বৃদ্ধির মাধ্যমে চলমান ছিল বলে ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এবার তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বারবার সময় বাড়ানোর পরিবর্তে এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকৃত ঋণ আদায় করাই ব্যাংকের লক্ষ্য। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না হলে আইন অনুযায়ী আদায় কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নীতিমালায় এককালীন ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সুদ ছাড়ের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। তবে এ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণখেলাপির কারণ ও গ্রাহকের আচরণ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও কৃষিঋণের ক্ষেত্রে প্রকৃত সমস্যাগ্রস্ত গ্রাহকদের সুবিধা দিয়ে আসল অর্থ আদায়কে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা।
Development by: webnewsdesign.com