ব্রেকিং

x

প্রতিমা তৈরি থেকে বিসর্জন পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তাবলয়

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৬:০৪ অপরাহ্ণ |

প্রতিমা তৈরি থেকে বিসর্জন পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তাবলয়
সংগৃহীত ছবি

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে সারাদেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিমা তৈরির স্থান থেকে শুরু করে পূজামণ্ডপ এবং শেষে বিসর্জন পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা বলয়। প্রতিটি মণ্ডপে থাকবেন আনসার সদস্যরা। টহলে থাকবে র‌্যাব-পুলিশ। সাদা পোশাকে মাঠ পর্যায়ে চলছে গোয়েন্দা নজরদারি। চলছে সাইবার টহলও। পূজা চলাকালে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে র‌্যাবের হেলিকপ্টারসহ বিশেষ ফোর্স। মণ্ডপগুলোয় রাখা হবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিজস্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

পুলিশ-র‌্যাবের দায়িত্বশীলরা বলছেন, দুর্গোৎসব ঘিরে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি বা হামলার তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তারপরও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন করতে শতভাগ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সবাই নিশ্চিন্তে ও নির্বিঘ্নে এ আয়োজনে অংশ নিতে পারবেন।

আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা। গত বছর কুমিল্লার নানুয়ার দিঘিরপাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখে যায় এক যুবক। এর পর ওই মণ্ডপসহ নগরীর আরও কয়েকটি মণ্ডপে ভাঙচুর চালানো হয়। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, রংপুরের বিভিন্ন স্থানে। এমন ঘটনা রোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিক। তবে এর মধ্যেও পূজা শুরুর আগেই ১০-১১টি স্থানে প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। আমরা আশাবাদী, শুধু পূজার সময় নয়, সব সময়ের জন্যই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করবে সরকার। পাশাপাশি আমরাও প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিজস্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছি। এ ব্যাপারে পূজা আয়োজকদের ২১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে আর্থিক সংগতি সাপেক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে মন্দিরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রেখে বাইরে আলোকসজ্জা পরিহার করতে বলা হয়েছে।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হায়দার আলী খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিট মিলে সারাদেশের সব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। মণ্ডপে আনসার থাকবে, পুলিশ থাকবে টহলে। স্বেচ্ছাসেবকরা সন্দেহজনক কিছু দেখলে পুলিশ-র‌্যাবকে ফোন করে জানাবেন। প্রবেশ পথে থাকবে তল্লাশির ব্যবস্থা। সব মণ্ডপকে সিসিটিভির আওতায় আনার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। যেসব এলাকায় আগের বছর প্রতিমা ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে এবং যেসব মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি আছে, সেসব স্থানে বাড়তি নজর রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি চলছে, যেন কেউ গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে না পারে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ ব্যাপারে পুলিশের সব ইউনিটের প্রধানদের বিশেষ নির্দেশনা দেবেন।

র‌্যাব সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, পূজা কমিটি ও মণ্ডপের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে র‌্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ও ৬০টি ক্যাম্প। সাদা পোশাকে মাঠে রয়েছেন গোয়েন্দারা। সাইবার স্পেসেও নজরদারি চলছে। মণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় থাকবে স্ট্রাইকিং ও রিজার্ভ ফোর্স। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোয় ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি করা হবে। প্রবেশ পথে আর্চওয়ে গেট ও তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। বহিরাগত বা সন্দেহজনক কেউ যেন ঢুকতে না পারে, সে ব্যাপারে বিশেষ নজর থাকবে।

২১ সেপ্টেম্বর ডিএমপি সদর দপ্তরে অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম ঢাকার সব পুলিশ ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটতে পারে, সে জন্য আমাদের সবাইকে পূজা চলাকালে পরিশ্রম করতে হবে।

×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Development by: webnewsdesign.com